Posts

আরব্য রজনী

রিচার্ড এফ বার্টনের ইংরাজী অনুবাদ থেকে বাংলা ভাষান্তর
[আংশীক] অতপরঃ। আমাদের পূর্বপুরুষগণ যে সমস্ত কাজ করে গেছেন বা যে সব কথা বলে গেছেন তা নিশ্চয়ই এই আধুনিক কালের মানুষদের কাছে একেকটি দৃষ্টান্ত বা উদাহরণে হয়ে উঠেছে, ফলে যেন অতীতকালে অন্যান্যদের জীবনে কি ধরনের সম্ভাবনা বা সুযোগ ও ঝুকি এসেছে তা সর্বকালের সাধারণ মানুষ দেখতে পায়, এবং সে জীবনে সর্তক হতে পারে; আরো যাতে আমরা অতীতের মানুষজনের জীবনের কাহিনি আর সমস্ত ঘটনা পুরোপুরি বুঝতে পারি, কীভাবে তারা শাসিত এবং পালিত হয়েছে:--সেহেতু প্রসংশা করো তাদের যারা অতিতের ইতিহাস গড়েছে এবং বর্তমান কাল অবধি সময়কে সতর্ক করছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা চলে যেমন কোন উপাখ্যান, “আরব্য রজনী,” এক দিক দিয়ে তা’ যেমন তাদের বিখ্যাত পৌরাণিক কথা, অপর দিকে তা’ বিস্ময়কর গল্প কাহিনি। এতে সুদীর্ঘ অতিত কাল আর প্রাচীনকালের শ্রোতধারা বর্তমানের সাথে একই সম্পর্কসূত্রে বাধা। (তবে আল্লাহ জানেন তার সমস্ত লুক্কায়িত জিনিসের খোজঁ আর সব সাশিত জিনিসের খোঁজ, সন্মানিত, সকল দান সকল করুনা  আর সমস্ত মার্জনার খোজ খবর, শুধু তাঁর জানা।) চলবে...

লজ্জা

লুবনার গালে এখন আর কোন স্পষ্ট ছাপ নেই, তবু মনের কোথায় যেন এক চিলতে জমিতে হালে চষা মাটির ওপর মাটির দাগের মতই দাগ বসে গেছে। তিন বছরের বিবাহিত জীবনে গত ন’মাসেই ওর মনের আপন ভূবনটা চষা হয়ে গেছে পুরোপুরি। এই ক’মাসে ওদের একটা সুন্দন সন্তান হতেও পারতো। লুবনা হাসে। এক রাতে সন্তানের এই আগ্রহের জন্যই মাতাল কায়েশ স্ত্রী লুবনার গালে প্রথম .....
আজকাল আর বিশেষ কোন প্রসঙ্গের প্রয়োজন হয় না। যে কোন প্রসঙ্গেই কায়েশ লুবনার গায়ে হাত তুলতে দিদ্ধা করে না। লুবনা আজকাল কাঁদতেও ভূলে গেছে। বা বলা যায় কাঁদতে  বিরক্ত লাগে আজকাল। বরং গালে সামান্য পাফ করে, বগলে ডিওড্রেন্ট স্প্রে করে চলে আসে হাতের কাছের কফি পার্লারে। মনে মনে কত কী ভাবে। আজ ভাবছিল ময়নার মায়ের কথা্ ওরাই বেশ ভাল আছে। নারীদের সমানাধিকারের লড়াইটা ওরাই বেশ একা লটছে। বস্তিতে থাকে, নিজে নিজের আয় রোজগার করে নেয় । স্বামী দুটো মারলে সেও দুটো মারে।
কফি পার্লারে ওপাশে একটা সুশ্রী যুবক ওর দিকে ওকে তরিয়ে তরিয়ে চোখে চোখে গিলছে। এতেও এক ধরনের শুখ মনে কিলিবিলি কাটে। ময়নার মত যুবতীরা আর ওর মায়েরা কখনো এমন সুখের সাধ পায় না। নাকী পায়।

ত্রয়ীর এক

রহমান আঠেরো তলায়ে লিফ্টে উঠেও বদলের ফ্ল্যাটের গেটে সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেলে চাপ দিয়ে ঘামছিল। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ফ্লাটটার গেটখানা দেখেই ‘থ মেরে রহমান ভাবে, এ বাড়ির জন্যে নির্ঘাত দশ বারো লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে। তা বাদল সাংবাদিকতা করে এত টাকা ... মনের কথা মনে থাকতে থাকতেই একটা মেয়ে নকসা কিশোর দরজা খুলে বললো, কাকে চাই?
--বাদল ভাই? ভাই শব্দটা বলবার আগে তার দু’বার ঢোক গিলতে হলো।
--দাড়ান দেখছি। মেয়ে নকসার কন্ঠে দারুন বিরক্তি।
দু’মুহূর্ত পর ফিরে এসে হেসে হেসে জানতে চায়, আপনার নামটাতো জানা হলো না! মধুকন্ঠী ছেলেটা প্রমান করে: কন্ঠে শর্করা, শরীরে ছন্দবদ্ধ সঞ্চালন আর চোখ-মুখে মিষ্টি হাসি লাগানো গেলেও আপ্যায়ণকর্মে নারীরাই উত্তম। অন্তত অতিথীকে অস্বয়াস্ততিতে পড়তে হয় না। রহমান বললো, রহমান, গিয়ে বলো ভেদাপেতা থেকে রহমান।
-- ভেদাপেতা! ভেদাপেতা কী জায়গার নাম? মেয়ে নকসা খিল খিল করে হাসতে হাসতে বাড়ির ভেতর দিকে চলে গেল কিত কিত খেলার ঢঙ্গে। রহমানের সন্দেহ হয়, মেয়ে নাতো? চুলে, জামা-কাপড়ে স্পস্ট ছেলে, শুধু কন্ঠে মধু।
রহমানের বেশ খানিক বিরক্তি লাগে কিন্তু কিছু করবার নেই। স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে, পাজামা পরা ডিগ…
Image
যুদ্ধ, রাজপুত্তুর, সীমা তার, নদী তীরের কুয়াশা আর ওভার ব্রিজের  উপর সূর্ষোদয়

এটা আমার আত্মজীবনীর মত আত্মজীবনি নয়, ইতিহাসের মত, ইতিহাস নয়

আজো শব্দ বোনে

আস্ত সূর্য্য অস্ত গেল! পাহাড় মেঘের নীচে
নাকি নীচে নেমে গেল, বিশ্রামে যাওয়া
কাল আসবে বলে
জ্যোতিষ্ক
জীবন্ত মানুষের মতই
সত্যাসত্যের ভেদাভেদ করে, দেখিয়ে দেওয়া
মেঘ মেঘই, পাহাড় ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস
আর নদী আলোর ছটায়ে রাঙ্গা
কেউ গেছে বনে, ক্ষেতে রক্ত বুনে দিতে
কেউ কেউ ধোয়ার মশাল জ্বেলে
আজো শব্দ বোনে
বীরশ্রেষ্ঠ আর্য
বীরজাতির বীর্য কোথায়

সিংহদ্বার

মনোয়ারাকে সেলিম ভালবাসে, তবে কেন ভালবাসে তা গুছিয়ে বলতে পারে না। অর্থাৎ, সত্যি সত্যিই ভালবাসে। কিন্তু একথা বলা যায় না। ওদের সংসারে মা মরা মেয়ে মনোয়ারার যা অবস্থান, তিন চাচীর ঘরে ফ্রি সার্ভিস দিতে দিতে এ সব কথা শোনবার মত মনের অবস্থা ওর আর থাকে না। মেয়ে-বাপে কোন মতে পৈত্রিক বাড়িটাতে জীবন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাছ্ড়া পাড়ায়ে সেলিমের যেমন রাগি রাগি ভাবমূর্তী তাতে তার এই পয়ত্রিশ বছর বয়সের সিরিয়াস প্রেমের এক-পক্ষিয় বেদনার কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না।
মনেয়ারার অসহায় বাপাও সেলিমের সাথে কিছুটা দূরত্ব বজিয়ে রেখে চলতে চায়। ট্রাকের পেছনে যেমন লেখা থাকে ‘১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখুন’ তবে চলাচলের পথে সে নিয়ম মেনে চলা যায় না।
ওর বৃদ্ধ বাপ এই বৈশাখে চৈত্রের দাবদহ রোদে পুড়ে ঘামে ভিজে এক হাতে বাজারের তিন চারটে ব্যাগ আর অন্য হাতে পাতাসহ বিশাল একটা মানকচু বয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরছে। সেলিম তখন পটকার চায়ের দোকানে ছায়ার নিচে বেঞ্চে বসে মোবাইলে চার্জ দিয়ে নিচ্ছিল; যদি কেউ বলে চা-বিড়ি ওড়াচ্ছিল মাগনা মাগনা, তাহলে ভুল হবে। তবু দূর থেকে সবাই পটকার চায়ের দোকানে ওকে দেখে সে কথাই ভাবে।

বৃদ্ধলোকটাও তেমন কথাই ভাবছিল। এর মধ্যেই যখন …

যুগবদল

ছোট ছোট শহরগুলোতে সেদিনও যৌথ পরিবার কিছু ছিল। নিজেদের যৌথ পরিবারের তেতলা বাড়ীর তিন তলার পিছ-বারান্দায়ে দাড়িঁয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে টানতে বশির দেখলো ওর অবসরপ্রাপ্ত বড়চাচা দু’হাতে দুটো বাজারের ব্যাগ টানতে টানতে বাড়ীর দিকেই আসছে।
আজ ছেয়াত্তর বছর বয়সে সে কথা আবারো বশিরের মনে পড়লো। ঢাকার বেইলি রোডের আঠারো তলা একটা বিল্ডিংয়ের চোদ্দ তলার বড় ছেলের ভাড়াটে ফ্ল্যাটে বসে বসে বাইরের আকাশটা দিকে তাকিয়ে, দৃশ্যটা তার মনে পড়লো।
বশির জানে, আর একটু পরেই, নাভেদ অফিসে বেরিয়ে যাবার পর পরই ওর বউ এসে বলবে, বাবা একটু হাঁটতে হাঁটতে বাজারে যাবেন?