Pages

Friday, November 25, 2016

লজ্জা

লুবনার গালে এখন আর কোন স্পষ্ট ছাপ নেই, তবু মনের কোথায় যেন এক চিলতে জমিতে হালে চষা মাটির ওপর মাটির দাগের মতই দাগ বসে গেছে। তিন বছরের বিবাহিত জীবনে গত ন’মাসেই ওর মনের আপন ভূবনটা চষা হয়ে গেছে পুরোপুরি। এই ক’মাসে ওদের একটা সুন্দন সন্তান হতেও পারতো। লুবনা হাসে। এক রাতে সন্তানের এই আগ্রহের জন্যই মাতাল কায়েশ স্ত্রী লুবনার গালে প্রথম .....
আজকাল আর বিশেষ কোন প্রসঙ্গের প্রয়োজন হয় না। যে কোন প্রসঙ্গেই কায়েশ লুবনার গায়ে হাত তুলতে দিদ্ধা করে না। লুবা আজকাল কাঁদতেও ভূলে গেছে। বা বলা যায় কাঁদতে  তার  লজ্জা করে আজকাল। বরং গালে সামান্য পাফ করে, বগলে ডিওড্রেন্ট স্প্রে করে চলে আসে হাতের কাছের কফি পার্লারে। মনে মনে কত কী ভাবে। আজ ভাবছিল ময়নার মায়ের কথা্ ওরাই বেশ ভাল আছে। নারীদের সমানাধিকারের লড়াইটা ওরাই বেশ একা লটছে। বস্তিতে থাকে, নিজে নিজের আয় রোজগার করে নেয় । স্বামী দুটো মারলে সেও দুটো মারে।
কফি পার্লারে ওপাশে একটা সুশ্রী যুবক ওর দিকে ওকে তরিয়ে তরিয়ে চোখে চোখে গিলছে। এতেও এক ধরনের শুখ মনে কিলিবিলি কাটে। ময়নার মত যুবতীরা আ ওর মায়েরা কখনো এমন সুখের সাধ পায় না।

Tuesday, November 24, 2015

ত্রয়ীর এক

রহমান আঠেরো তলায়ে লিফ্টে উঠেও বদলের ফ্ল্যাটের গেটে সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেলে চাপ দিয়ে ঘামছিল। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ফ্লাটটার গেটখানা দেখেই ‘থ মেরে রহমান ভাবে, এ বাড়ির জন্যে নির্ঘাত দশ বারো লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে। তা বাদল সাংবাদিকতা করে এত টাকা ... মনের কথা মনে থাকতে থাকতেই একটা মেয়ে নকসা কিশোর দরজা খুলে বললো, কাকে চাই?
--বাদল ভাই? ভাই শব্দটা বলবার আগে তার দু’বার ঢোক গিলতে হলো।
--দাড়ান দেখছি। মেয়ে নকসার কন্ঠে দারুন বিরক্তি।
দু’মুহূর্ত পর ফিরে এসে হেসে হেসে জানতে চায়, আপনার নামটাতো জানা হলো না! মধুকন্ঠী ছেলেটা প্রমান করে: কন্ঠে শর্করা, শরীরে ছন্দবদ্ধ সঞ্চালন আর চোখ-মুখে মিষ্টি হাসি লাগানো গেলেও আপ্যায়ণকর্মে নারীরাই উত্তম। অন্তত অতিথীকে অস্বয়াস্ততিতে পড়তে হয় না। রহমান বললো, রহমান, গিয়ে বলো ভেদাপেতা থেকে রহমান।
-- ভেদাপেতা! ভেদাপেতা কী জায়গার নাম? মেয়ে নকসা খিল খিল করে হাসতে হাসতে বাড়ির ভেতর দিকে চলে গেল কিত কিত খেলার ঢঙ্গে। রহমানের সন্দেহ হয়, মেয়ে নাতো? চুলে, জামা-কাপড়ে স্পস্ট ছেলে, শুধু কন্ঠে মধু।
রহমানের বেশ খানিক বিরক্তি লাগে কিন্তু কিছু করবার নেই। স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে, পাজামা পরা ডিগ ডিগে শরীরের বাদল হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে নিজেই দৌড়ে এসেছে সদর দরজায়ে, আরে দোস্ত তুই, আয় আয় ... রহমানের মনে হলো বাদলতো দেখি আগের মতই আছে!
অনেক দিন পর, স্কুলের পর। কলেজ থেকেই দু’জন দু’জায়গায়ে। এই এত দিনের দেখা না হওয়ার অনেক কথাই জমা হয়ে ছিল দু’বন্ধু বুকে; অনেক তথ্য, অনেক সংবাদ, হাজার প্রশ্ন, লক্ষ্য উত্তর; সব কিছু ছাপিয়ে রহমানের মনে প্রশ্ন ছাপিয়ে ওঠে, মেয়েনক্সাটারে রাখিছ কেন?
--আমি রাহি নাই, হেতায়ে আমারে রাখছে! আমার স্ত্রী।

Tuesday, November 17, 2015

আজো শব্দ বোনে

আস্ত সূর্য্য অস্ত গেল! পাহাড় মেঘের নীচে
নাকি নীচে নেমে গেল, বিশ্রামে যাওয়া
কাল আসবে বলে
জ্যোতিষ্ক
জীবন্ত মানুষের মতই
সত্যাসত্যের ভেদাভেদ করে, দেখিয়ে দেওয়া
মেঘ মেঘই, পাহাড় ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস
আর নদী আলোর ছটায়ে রাঙ্গা
কেউ গেছে বনে, ক্ষেতে রক্ত বুনে দিতে
কেউ কেউ ধোয়ার মশাল জ্বেলে
আজো শব্দ বোনে
বীরশ্রেষ্ঠ আর্য
বীরজাতির বীর্য কোথায়

Thursday, October 15, 2015

সিংহদ্বার


মনোয়ারাকে সেলিম ভালবাসে, তবে কেন ভালবাসে তা গুছিয়ে বলতে পারে না। অর্থাৎ, সত্যি সত্যিই ভালবাসে। কিন্তু একথা বলা যায় না। ওদের সংসারে মা মরা মেয়ে মনোয়ারার যা অবস্থান, তিন চাচীর ঘরে ফ্রি সার্ভিস দিতে দিতে এ সব কথা শোনবার মত মনের অবস্থা ওর আর থাকে না। মেয়ে-বাপে কোন মতে পৈত্রিক বাড়িটাতে জীবন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাছ্ড়া পাড়ায়ে সেলিমের যেমন রাগি রাগি ভাবমূর্তী তাতে তার এই পয়ত্রিশ বছর বয়সের সিরিয়াস প্রেমের এক-পক্ষিয় বেদনার কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না।

মনেয়ারার অসহায় বাপাও সেলিমের সাথে কিছুটা দূরত্ব বজিয়ে রেখে চলতে চায়। ট্রাকের পেছনে যেমন লেখা থাকে ‘১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখুন’ তবে চলাচলের পথে সে নিয়ম মেনে চলা যায় না।

ওর বৃদ্ধ বাপ এই বৈশাখে চৈত্রের দাবদহ রোদে পুড়ে ঘামে ভিজে এক হাতে বাজারের তিন চারটে ব্যাগ আর অন্য হাতে পাতাসহ বিশাল একটা মানকচু বয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরছে। সেলিম তখন পটকার চায়ের দোকানে ছায়ার নিচে বেঞ্চে বসে মোবাইলে চার্জ দিয়ে নিচ্ছিল; যদি কেউ বলে চা-বিড়ি ওড়াচ্ছিল মাগনা মাগনা, তাহলে ভুল হবে। তবু দূর থেকে সবাই পটকার চায়ের দোকানে ওকে দেখে সে কথাই ভাবে।

বৃদ্ধলোকটাও তেমন কথাই ভাবছিল। এর মধ্যেই যখন সেলিম এসে ওর হাত থেকে বাজারের ব্যাগগুলো নিয়ে বললো, দ্যান, চাচা, আমার হাতে দ্যান। আমি দিয়া আসি।

Wednesday, October 14, 2015

যুগবদল

ছোট ছোট শহরগুলোতে সেদিনও যৌথ পরিবার কিছু ছিল। নিজেদের যৌথ পরিবারের তেতলা বাড়ীর তিন তলার পিছ-বারান্দায়ে দাড়িঁয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে টানতে বশির দেখলো ওর অবসরপ্রাপ্ত বড়চাচা দু’হাতে দুটো বাজারের ব্যাগ টানতে টানতে বাড়ীর দিকেই আসছে।
আজ ছেয়াত্তর বছর বয়সে সে কথা আবারো বশিরের মনে পড়লো। ঢাকার বেইলি রোডের আঠারো তলা একটা বিল্ডিংয়ের চোদ্দ তলার বড় ছেলের ভাড়াটে ফ্ল্যাটে বসে বসে বাইরের আকাশটা দিকে তাকিয়ে, দৃশ্যটা তার মনে পড়লো।
বশির জানে, আর একটু পরেই, নাভেদ অফিসে বেরিয়ে যাবার পর পরই ওর বউ এসে বলবে, বাবা একটু হাঁটতে হাঁটতে বাজারে যাবেন?

Tuesday, October 13, 2015

বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি

বিক্রয়  করা হবে,  শিশুর অব্যবহৃত জুতা ।


“For sale: Baby shoes. Never worn.”
Hemingway