ত্রয়ীর এক

রহমান আঠেরো তলায়ে লিফ্টে উঠেও বদলের ফ্ল্যাটের গেটে সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেলে চাপ দিয়ে ঘামছিল। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ফ্লাটটার গেটখানা দেখেই ‘থ মেরে রহমান ভাবে, এ বাড়ির জন্যে নির্ঘাত দশ বারো লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে। তা বাদল সাংবাদিকতা করে এত টাকা ... মনের কথা মনে থাকতে থাকতেই একটা মেয়ে নকসা কিশোর দরজা খুলে বললো, কাকে চাই?
--বাদল ভাই? ভাই শব্দটা বলবার আগে তার দু’বার ঢোক গিলতে হলো।
--দাড়ান দেখছি। মেয়ে নকসার কন্ঠে দারুন বিরক্তি।
দু’মুহূর্ত পর ফিরে এসে হেসে হেসে জানতে চায়, আপনার নামটাতো জানা হলো না! মধুকন্ঠী ছেলেটা প্রমান করে: কন্ঠে শর্করা, শরীরে ছন্দবদ্ধ সঞ্চালন আর চোখ-মুখে মিষ্টি হাসি লাগানো গেলেও আপ্যায়ণকর্মে নারীরাই উত্তম। অন্তত অতিথীকে অস্বয়াস্ততিতে পড়তে হয় না। রহমান বললো, রহমান, গিয়ে বলো ভেদাপেতা থেকে রহমান।
-- ভেদাপেতা! ভেদাপেতা কী জায়গার নাম? মেয়ে নকসা খিল খিল করে হাসতে হাসতে বাড়ির ভেতর দিকে চলে গেল কিত কিত খেলার ঢঙ্গে। রহমানের সন্দেহ হয়, মেয়ে নাতো? চুলে, জামা-কাপড়ে স্পস্ট ছেলে, শুধু কন্ঠে মধু।
রহমানের বেশ খানিক বিরক্তি লাগে কিন্তু কিছু করবার নেই। স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে, পাজামা পরা ডিগ ডিগে শরীরের বাদল হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে নিজেই দৌড়ে এসেছে সদর দরজায়ে, আরে দোস্ত তুই, আয় আয় ... রহমানের মনে হলো বাদলতো দেখি আগের মতই আছে!
অনেক দিন পর, স্কুলের পর। কলেজ থেকেই দু’জন দু’জায়গায়ে। এই এত দিনের দেখা না হওয়ার অনেক কথাই জমা হয়ে ছিল দু’বন্ধু বুকে; অনেক তথ্য, অনেক সংবাদ, হাজার প্রশ্ন, লক্ষ্য উত্তর; সব কিছু ছাপিয়ে রহমানের মনে প্রশ্ন ছাপিয়ে ওঠে, মেয়েনক্সাটারে রাখিছ কেন?
--আমি রাহি নাই, হেতায়ে আমারে রাখছে! আমার স্ত্রী।

Comments

Popular posts from this blog

লজ্জা

আরব্য রজনী

আজো শব্দ বোনে